1. Saifuddin8600@gmail.com : S.M Saifuddin Salehi : S.M Saifuddin Salehi
  2. Journalistmmhsarkar24@gmail.com : Md: Mahidul Hassan Mahi : Md: Mahidul Hassan Mahi
  3. rajuahamad717@gmail.com : Md Raju Ahamed : Md Raju Ahamed
  4. rakibulpress51@gmail.com : Rakibul Hasan : Rakibul Hasan
  5. rajruhul@gmail.com : মোঃ রুহুল আমীন : মোঃ রুহুল আমীন
  6. prosajjad@gmail.com : Sazedur Rahman Sajjad : Sazedur Rahman Sajjad
  7. shorifulshorif01@gmail.com : Md shoriful Islam Shorif : Md shoriful Islam Shorif
  8. dailyatrai@gmail.com : Md Rasel Kobir : Md Rasel Kobir
সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আত্রাইয়ে করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক প্রদর্শনী আত্রাইয়ে দেয়াল চাপা পড়ে শিশুর মৃত্যু, আহত ৩ আত্রাইয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫২ নওগাঁয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ফল উৎসব আত্রাইয়ে আত্রাই সেতুর দুই পার্শে গোল চত্বর নির্মাণের দাবীতে পথ সভা আত্রাইয়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে অসহায় দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ আত্রাইয়ে সাংবাদিকদের সাথে ইউএনও’র মত বিনিময় রাণীনগরে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ভাই-ভাতিজি আহত!! থানায় অভিযোগ আত্রাইয়ে বিনামূল্যে ভায়া টেষ্ট পরীক্ষার উদ্বোধন করোনা পরিস্থিতি অবনতি; নওগাঁয় বিধিনিষেধ বাড়ানো হলো আরও এক সপ্তাহ
add

“মাদক ফেলে এসো সবাই হাতে হাত ধরি মানব সেবায় শপথ করে নতুন জীবন গড়ি”

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৬২ বার পড়া হয়েছে


একজন আইনজীবি হিসাবে, আইনপেশা থেকে আমার যেটা ধারণা হয়েছে,শুধু মাত্র আইন জানা থাকলেই জনসাধারণ আইন মান্য করে না। আমরা দেখতে পাই,আইন আদালতে বেআইনি কাজের কঠোর সাজা ও শাস্তিরবিধান থাকার পরও সমাজে অপরাধ অহরহ ঘটে চলেছে।

মানুষ কেন বেআইনী বা অপরাধ মূলক কাজ করে থাকে এটা অনেক ব্যাপক বিস্তৃত ও অমীমাংসিত ইস্যু।

যদিও একটা কথা আমরা সবাই জানি;
“কোন মানুষই অপরাধী হয়ে জন্মায় না” মানুষ অপরাধী হয় তার পারিপার্শ্বিক,আর্থ সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রকৃতিগত নানা কারণে।

আমরা যে যা করি,প্রতিটি ঘটনারই একটি কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব কি না এ বিষয়ে মোল্লা নাসিরুদ্দিন আর বুখারার আমিরের মধ্যে একটি গল্প প্রচলিত আছে;

“হুজুর কিছুক্ষণ আগে আপনি এক পাগল কে ফাঁসির হুকুম দিয়েছেন”।আমির বললেন হ্যাঁ দিয়েছি এবং সব সাক্ষ্য শুনেই দিয়েছি।তা কি বলতে চাউ মোল্লা? মোল্লা বললেন, হুজুর এ ক্ষেত্রে প্রকৃত খুনি কে,এটা ভেবে দেখেছেন কি?এ কথা সত্য, পাগল নিরীহ মানুষ খুন করেছে।কিন্তু এ ক্ষেত্রে পাগল কি একাই দায়ী নাকি যারা তাকে পাগল করেছে তারা দায়ী? হুজুর,এই ব্যক্তির স্ত্রী তাঁর সব টাকা পয়সা নিয়ে পরপুরুষের সংগে চম্পট দিয়েছে।এতে তিনি পাগল হয়ে যান।অপ্রকৃতস্থ বলেই তিনি খুন করেছেন। এই খুনের জন্য কি তিনি দায়ী, না তার স্ত্রী দায়ী?হুজুর এখানেই শেষ নয়; ওই পাগল দোকানে গিয়ে ছুরি নেয়। দোকানদার কেন পাগলের কাছে ছুরি বিক্রয় করল?এই খুনের জন্য কি দোকানদার দায়ী নয়?হুজুর, পাগলটি যখন ছুরি নিয়ে রাস্তায় নামে,তখন অনেক লোক দেখতে পায়।তাদের কি দায়িত্ব ছিল না পুলিশ ডেকে পাগল কে নিরস্ত্র করা?হুজুর এর পর পাগলটি যখন ছুরি নিয়ে নিরীহ ব্যক্তিকে আক্রমণ করে তখন রাস্তায় অনেকে দেখতে পায়,তাদের কি দায়িত্ব ছিল না,পাগলের হাত থেকে লোকটিকে বাঁচাতে চেষ্টা করা? এবার বলুন হুজুর,আমরা এখানে খুনের দায়িত্ব কীভাবে নিরুপণ করবো?

আমার নিজ উপজেলা গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজারকে বলা হয় বৃহত্তর চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র। সড়ক ও নদীপথে চমৎকার ব্যবসা- বাণিজ্যের পরিবেশ এই উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারের সাথে।ব্যবসা- বাণিজ্যের পাশাপাশি এই উপজেলায় হরেক রকমের সুমিষ্ট মৌসুমি ফলের বৃহৎ বাগান,অধিকাংশ বছরেই ধান,পাট,রসুন,তরমুজ সহ ফসলের বাম্পার আবাদ,তাছাড়া উপজেলার সর্বত্র মৎস্য চাষে এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ কে করেছে অর্থনৈতিক ভাবে বেশ স্বচ্ছল ও স্বাবলম্বী।তুলনামূলক এই উপজেলার মানুষ বেশ শান্তিপ্রিয় ও বন্ধু-ভাবাপন্ন।বিভিন্ন ধর্ম ও রাজনৈতিক দলের মানুষ এখানে একসাথে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সগৌরবে এক সাথে বসবাস করে চলেছে যুগ যুগ থেকে।অধিকাংশ মানুষই এলাকার একে অপরের সাথে আত্নীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ।

কিন্তু বর্তমানে সমগ্র দেশের মতোই এই শান্তপ্রিয় উপজেলাতেও দেখতে পাই খুন,শিশুহত্যা, আত্নহত্যা,চুরি,ছিনতাই,জুয়াখেলা, নারীনির্যাতন থেকে শুরু করে অপরাধ,অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ড অনেক বেড়ে গেছে।আর এ সবগুলো অপরাধের পেছনে মাদক ব্যবসা ও মাদকাসক্ত মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে।

আগে উপজেলায় অনেক সুনির্দিষ্ট অনেক জায়গাতে মাদক পাওয়া যেত।এখন আর কোথাও যেতে হয় না।এখন ডিজিটাল জামানায় শুধু মাত্র একটা ফোন আর লোকেশন বলে দিলেই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সকল ধরনের মাদক পৌছে যায়।

সারাদেশের মতোই এই শান্তিপ্রিয় এলাকাতেও অভিযোগ আছে,মাদকসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের টাকার বিনিময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও দল ভারী করার জন্য আশ্রয় -প্রশ্রয় দিয়ে থাকে অনেক সময়।

“মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে” মাদকের বিস্তার ও সেবন প্রতিরোধে অত্যন্ত কঠোর শাস্তির বিধান থাকার পরও আইনের বিভিন্ন ফাঁক ফোঁকর দিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হবার পরও খুচরো মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা সহজেই রেহাই পেয়ে যাচ্ছে।

আইনজীবী হিসাবে অভিজ্ঞতায় উপলব্ধি করতে পারি;মাদকের প্রধান ব্যবসায়ীরা দেশের কোথাও গ্রেফতারি হয় না বললেই চলে,যা অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার।

মাদকাসক্ত বর্তমানে আমাদের দেশের একটি ভয়ংকর জাতিয় সমস্যা।শিক্ষিত -অশিক্ষিত,সব বয়সী ও পেশার মানুষ মাদকের ভয়ংকরী বিষাক্ত ছোবলে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। একজন মাদকসেবী তার প্রিয়তম বাবা- মা,ভাই-বোন, সন্তান,আত্নীয়স্বজন,বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে পুরো সমাজ ও দেশের জন্য চরম নির্মম, নিষ্ঠুর ও হৃদয়বিদারক পরিণতি ডেকে নিয়ে আসে। আমার আশে পাশে এরকম অনেক পরিবারকে দেখেছি যাদের সুখের সংসার;হঠাৎ পরিবারের কোন সদস্যের মাদকাসক্তের জন্য তারা ধ্বংস হয়ে গেছে,তাদের দু:খ দেখে মনে হয়; পরিবারটা নরকে পতিত হয়েছে। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির না থাকে কোন নৈতিক ভিত্তি না থাকে কোন যুক্তিবোধ।মাদকের অর্থ জোগাতে তারা সব ধরনের অন্যায়,অনৈতিক,অপরাধ ও পাপ কর্ম করে থাকে। নেশাগ্রস্ত ও মাতাল মানুষকে সবাই ভয় পায়,কেননা তারা সব কিছু করার ক্ষমতা রাখে।
কিন্তু মনে রাখতে হবে,”খারাপ মানুষের কারণে সমাজ নষ্ট হয় না,সমাজ নষ্ট হয় সৎ মানুষের নীরবতায়”।

বর্তমান আমদের এলাকার অবস্থা এমন যে; মাদকের বিরুদ্ধে এখনই যদি ব্যাপকভাবে সামাজিক আন্দোলন না করতে পারি, নিকট ভবিষ্যতে এমন কোন পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবে না,যে পরিবারের কেউ না কেউ মাদকাসক্ত হবে না।তখন আর হায় হায় করেও কোন কুল পাওয়া যাবে না।

পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক, প্রেম -বিরহ,ব্যর্থতা নানা সমস্যায় মানুষ রাগ,দু:খ,ক্ষোভ,অভিমান থেকে অনেক সময় মাদকে আশক্ত হয়।তবে মানুষ আসলে কেন মাদক দ্রব্য গ্রহণ করে এ বিষয়ে কোন কিছু সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায় না বা কারণ জানা নেই।তবে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা অধিকাংশ সময় নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি চিরন্তন আগ্রহ থেকে। আর আগ্রহ থেকে; দেখি একবার কেমন লাগে ; এমন ভুল আত্নঘাতি আগ্রহ থেকেই মূলত ধীরে ধীরে মাদকে আশক্তি হয়ে পড়ে।”গানের সুরে বলা যায়;

“বন্ধু বান্ধবের দেখা দেখি মারি একটা দুইটা টান তার পরে হয়ে গেল মাদক আমার প্রাণ”

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে,লেখা- পড়ার পাশপাশি সমাজে সুন্দর ও রুচিশীল শিল্প,সংস্কৃতি,খেলাধুলো করার পরিবেশ থাকা উচিৎ। সেই সাথে মানব কল্যাণকর ধর্মীয় অনুশাসন বাস্তবায়নে সকল প্রতিষ্ঠানের জোড়ালো ভূমিকা রাখতে হবে।

মনে রাখতে হবে, একটি সুখি- সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে হলে আমাদের নিজেদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মর জন্য;
দারিদ্রমুক্ত,সন্ত্রাসমুক্ত,দুর্নীতিমুক্ত ,শোষণহীণ একটি সুখি-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে সমাজে রাজনৈতিক দল ও সরকারের পাশাপাশি ,বিচারবিভাগ,আইনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ সর্বস্তরের জনসাধারণকে মাদকের মতো সমস্ত অশুভ জিনিসের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

লেখক: এস,এম,শহিদুল ইসলাম (সোহেল)
এ্যাডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রিমকোট

add

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর...
add
add

Prayer Time Table

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫২
  • ১২:০৯
  • ৪:৪৬
  • ৬:৫৮
  • ৮:২৪
  • ৫:১৭
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত /দৈনিক আত্রাই এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
কারিগরি সহযোগিতায়: মোস্তাকিম জনি